সুষম খাদ্য কি? সুষম খাদ্য কেন প্রয়োজন?

বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি পাণীরই খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্য ছাড়া কেউই বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে না। তাই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে যে প্রাণী যত কৌশলে তার জন্য খাদ্য এবং আশ্রয় জোগাড় করতে পারবে সেই প্রাণীই বেঁচে থাকবে বা অভিযোজিত হতে পারবে।


সুষম খাদ্য কাকে বলেঃ

খাদ্যের মোট ছয়টি উপাদান আছে। সেগুলো হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, আমিষ বা প্রোটিন, ফ্যাট বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ বা মিনারেলস এবং পানি। যে সকল খাদ্যে খাদ্যের এই ছয়টি উপাদান পরিমাণ মতো আছে বা সঠিক অনুপাতে আছে তাকে সুষম খাদ্য বলে।

সুষম খাদ্যের উপাদান
ফুড পিরামিড

সুষম খাদ্যের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তাঃ

আমাদের শরীরের জন্য খাদ্যের সব ধরনের উপাদানই সমানভাবে গুরুত্ব বহন করে। তাই আমাদেরকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। 

আমাদের সুসস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন 
করার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমাদের দেহে অনেক ধরনের রোগ হয় যার জন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাস এককভাবে দায়ী। তাই আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন এ সকল রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কেননা সুষম খাদ্য গ্রহণের ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আমাদের সঠিক দৈহিক বিকাশের জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। আমরা বিভিন্ন খাদ্য থেকে বিভিন্ন মাত্রায় ক্যালরি পেয়ে থাকি যার মাধ্যমে আমরা কাজ করার শক্তি পাই। সঠিক মাত্রার ক্যালরি পাওয়ার জন্য আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মোট কথা আমাদের দেহের শক্তি ও দৈহিক বৃদ্ধি, মেধা ও বুদ্ধির বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং আমাদেরকে কর্মক্ষম রাখতে আমরা সুষম খাদ্যের উপর নির্ভরশীল।


সুষম খাদ্যের উপাদানঃ

সুষম খাদ্যের মোট উপাদান ছয়টি। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, আমিষ বা প্রোটিন, ফ্যাট বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ বা মিনারেলস এবং পানি। সুষম খাদ্যের এই ছয়টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তা নিম্নে উল্লেখিত-
সুষম খাদ্য


শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটঃ

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। শর্করাকে ইংরেজীতে কার্বোহাইড্রেট বলে। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের উৎস হলো চাল, গম, ভূট্টা, আখ, আপেল, খেজুর, চিনি, গাজর, মধু, বাদাম ও সব ধরনের শুকনো ফল। আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার বেশির ভাগই শর্করা জাতিয় খাদ্য খেয়ে থাকি।

আমাদের শরীরে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব ঃ

  • শর্করা আমদের দেহের শক্তি যোগায়।
  • শর্করার অভাবে আমাদের শরীরে অপুষ্টি দেখা যায়।
  • শর্করার অভাবে আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা হয়।
  • রক্তে শর্করার অভাবে আমাদের শরীরে হাইপোগ্লাইমিয়ারের লক্ষণ দেখা যায়।

প্রোটিন বা আমিষঃ

প্রোটিন বা আমিষ হলো এক ধরনের অ্যামিনো এসিড।আমাদের শরীরের অনেক কাজ প্রোটিন করে থাকে বিধায় এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যগুলো হলো ডিমের সাদা অংশ, মাংস, মাছ, ডাল, সয়াবিন, বীন, দুধ ইত্যাদি।

আমাদের শরীরে প্রোটিন বা আমিষের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব ঃ

  • আমিষ আমাদের দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।
  • আমিষ আমাদের দেহের ক্ষয়পূরণ করে।
  • আমিষ আমাদের দেহে নাইট্রোজেনের সমতা বজায় রাখে।
  • আমিষের অভাবে আমাদের দেহে নানা রোগের উপসর্গ দেখা যায়।
  • আমিষের অভাবে আমাদের দেহের কোয়ারশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ হয়।

ফ্যাট বা স্নেহ ঃ

আমাদের শরীরের জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হলো ফ্যাট বা স্নেহ। ফ্যাট বা স্নেহ জাতিয় খাদ্য আমাদের কাজ করার শক্তি যোগায়। কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য ফ্যাট বা স্নেহের পুষ্টির প্রয়োজন সীমিত। ফ্যাট বা স্নেহ অতিরিক্ত আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

আমাদের শরীরে ফ্যাট বা স্নেহের  প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব ঃ

  • ফ্যাট বা চর্বি আমাদের দেহে শক্তি যোগায়। তাই স্নেহের অভাবে আমরা কর্মক্ষম হয়ে পড়ব।
  • ফ্যাট বা চর্বির অভাবে আমাদের ত্বক খসখসে হয়ে যাবে।

ভিটামিনঃ

ভিটামিন আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি পুষ্টি উপাদান। ভিটামিন মোট ছয় ধরনের। প্রায় প্রতিটি খাদ্যেই স্বপ্ল পরিমাণের ভিটামিন উপস্থিত আছে। আমাদের দেহে ভিটামিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে এটি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।

মিনারেল বা খনিজ লবণঃ

শুধু আমাদের শর্করা, ভিটামিন, ফ্যাট মাথায় রেখে খাদ্য গ্রহণ করলেই চলবে না। মিনারেল আমাদের দেহের দাত, অস্থি, এনজাইম গঠন করে। তাই মিনারেল বা খনিজ পদার্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিনারেলের উৎস হলো মাংস,ডিম, ফল, শাক- সবজি ইত্যাদি।

পানিঃ

পানির কথা আলাদা করে বলা লাগে না। পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষ বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে না। পানি আমাদের খাদ্য পরিপাকে, দেহ ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের সবারই সুষম খাদ্যের প্রয়োজন আছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশু কিশোরদের বেশি সুষম খাদ্যের প্রয়োজন কেননা এই সময় তাদের শরীর গঠন ও শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। একজন মানুষের তার বয়স এবং কাজের ধরণ অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। সুষম খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে খাদ্য নির্বাচনের সময় একাধিক খাদ্য হতে সেই খাদ্যটিই নির্বাচন করতে হবে যেগুলো পার্শ প্রতিক্রিয়া কম ও তুলনামূলক বেশি উপকারী।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Health

Blogger Templates