তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) কি? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (TCT) ব্যবহার।

বর্তমান বিশ্বের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি ছাড়া আমরা এখন কোনো কিছু করার পরিকল্পনা চিন্তাও করতে পারি না। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি আমাদের জীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে এবং আমাদের অনেক সময় অপচয় রোধ হচ্ছে। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বলতে সেই সকল তথ্য বা জ্ঞান এবং প্রযুক্তির কথা আসে যা আমাদের জীবনকে আধুনিক ও আমাদের জীবনের সকল কাজকে সহজ করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য প্রেরণ, তথ্য সংরক্ষণ করতে যেমন প্রযুক্তির ব্যবহার করা লাগে ঠিক তেমনি যেকোনো প্রযুক্তি বানানো, প্রযুক্তির ডেভেলপমেন্ট করতেও উন্নত বা গবেষণালব্ধ তথ্যের প্রয়োজন। সুতরাং, তথ্য ও প্রযুক্তি একে অন্যের পরিপূরক। 

এখন আসি তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে। আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির একটু হলেও ব্যবহার রয়েছে। তাই তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি


শিক্ষা ক্ষেত্রেঃ 

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থীদের একসাথে ক্লাস করানোর জন্য প্রজেক্টের ব্যবহার করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে লেসনগুলো আরো ক্লিয়ার হয়। অনেক অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। যেমনঃ রবি টেন মিনিট স্কুল। শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ঘেটে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্চে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর যেকোনো নোটস তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেয়। ফলে সবাই গুরুত্বপূর্ণ নোটিস গুলো সহজেই পেয়ে যায়।

ব্যবসা ক্ষেত্রেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যবসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যোগ হয়ে এখন ব্যবসার একটি নতুন শাখা ই-কমার্সে পরিণত হয়েছে। ই-কমার্সের অনেক সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও এখন যেকোনো ব্যবসাতেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তারা তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়। যারা বিজ্ঞাপন দেখে তারাও বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেখে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেঃ

বর্তমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোটাই নির্ভর করে তথ্য ও প্রযুক্তির উপর। যেকোনো ধরনের চিকিৎসা দিতে, রোগ নির্ণয় করতে, ঔষধ বানাতে অনেক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা লাগে। তাই তথ্য ও প্রযুক্তি ছাড়া চিকিৎসার কথা চিন্তা করা যায় না।

কৃষি ক্ষেত্রঃ

একটা সময় ছিল যখন কৃষি কাজে কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার হতো না। তখন কৃষি কাজ করা ছিল অত্যন্ত কষ্টের এবং সময় সাপেক্ষের। আর মাঝে মাঝে ফসলের রোগ এবং পানির অভাবে অনেক ক্ষতি হতো। কিন্তু এখন তথ্য ও প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষি কাজ এখন হয়ে উঠেছে সহজ এবং সময়ের অপচয় কমেছে অনেক। প্রয়োজনীয় সার এবং পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থার কারণে ফসলের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এবং অনেক লাভ হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন সম্ভব হচ্ছে প্রযুক্তির কারণেই।

বিনোদনের ক্ষেত্রেঃ

তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বিনোদনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিনোদনের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমা, গেম, মুভি দেখি। আবার অনেক উন্নত পার্ক উন্নত প্রযুক্তি দিয়েই নির্মিত। অনেক আধুনিক খেলনা যেমনঃ ভিডিও গেম এগুলো বানাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন বিনোদনের উপাদান যেমনঃ ক্রিকেট ব্যাট ও বল, ফুটবল, হকি স্টিক, ভলিবল ইত্যাদি বানানো হয়। আবার আমরা বিভিন্ন ধরনের বই পড়ি যেমন- গল্পের বই, সাহিত্য, কাব্যগ্রন্থ ইত্যাদি ছাপানোর জন্য মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এভাবেই আমাদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

ব্লগটি ভালো লাগলে কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন, ধন্যাবাদ।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Health

Blogger Templates