আর্টিকেল লেখার নিয়ম

আর্টিকেল কি?

আর্টিকেল (Article) হলো একটি ইংরেজি শব্দ যার বাংলা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে নিবন্ধ, প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে এবং অনেক প্রয়োজনে আমাদের আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন পড়ে। তাই আমাদের ভালো করে উন্নত মানের আর্টিকেল লেখার জন্য আর্টিকেল লেখার নিয়ম  সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। 

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

কখন আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন পড়ে?

শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে চাকুরী জীবন পর্যন্ত সব সময় এবং প্রায় অনেক কাজ করতে আমাদের আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন পড়ে। চাকুরী এবং শিক্ষাজীবনে একটি ভালো আর্টিকেলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। যেসকল ক্ষেত্রে আমাদেরকে আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন হতে পারে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

শিক্ষাজীবনেঃ

বর্তমানের শিক্ষা ব্যবস্থা হলো সৃজনশীল ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্থা। তাই ছাত্রজীবনে আর্টিকেল লেখার গুরুত্ব অনেক। বিভিন্ন সৃজনশীল ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানতে হয়।


চাকরি জীবনেঃ

চাকরি জীবনেও আমাদের অনেক সময় আর্টিকেল লেখতে হয়। বিশেয়াহ করে যারা মুক্তজীবী বা ফ্রিল্যান্সার তাদের এই স্কিলটা বেশি প্রয়োজন। যেমনঃ
গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফটোশপের কাজ, ভিডিও এডিটিং, ভয়েস ট্যালেন্ট, কন্টন্ট রাইটিং, এসইও এক্সপার্ট হওয়া, বিভিন্ন ধরনের ভাষা জানা, কোডিং জানা, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি। এর মধ্যে শুধু এসইও এক্সপার্ট হওয়া এবং কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানা জরুরী। এছাড়াও অনেল লোক বিভিন্ন নিউজ ওয়েবসাইট, নিউজ পেপার ইত্যাদিতে সম্পাদক হিসেবে কাজ করে। তাই তাদের জন্যও আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানা জরুরী। 


আর্টিকেল লেখার নিয়মঃ

একটি সুন্দর এবং উন্নতমানের আর্টিকেল লেখার জন্য অনেক নিয়ম এবং আলাদা অনেক বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরী। নিম্নে আর্টিকেল লেখার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

টাইটেল নির্বাচনঃ

আর্টিকেল লেখার প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে একটি আকর্ষণীয় টাইটেল লেখা। তাই আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান, সেই বিষয়ের উপর একটু চিন্তা-ভাবনা করে একটি টাইটেল নির্বাচন করুন। এমন একটি টাইটেল দিন, যেখানে সমস্ত আর্টিকেল এর মূলভাব ফুটে উঠে। আর যারা ফ্রিল্যান্সার, তারা টাইটেল নির্বাচন করতে পারেন বিভিন্ন টুল ইউজ করে। যাতে আপনারা ভিজিটর বেশি পান। টাইটেল নির্বাচন করার জন্য বিভিন্ন ফ্রি এবং পেইড টুল রয়েছে। ফ্রি টুলের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো আহরেফ কি-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল।

আহরেফ কি-ওয়ার্ড রিসার্চ টুলের ব্যবহারঃ

প্রথমে উপরের লিংকটি ক্লিক করুন অথবা আহরেফ কি-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল ইংলিশে লিখে সার্চ দিন। পরে ভেতরে ঢুকে একটি দেশ বা কান্ট্রি সিলেক্ট করুন। দেশ বা কান্ট্রি সিলেক্ট করবেন আপনি যে ভাষা এবং যে জাতির উদ্দেশ্যে লিখছেন তার সমন্বয়ের ভিত্তিতে। এরপর আপনি একটি কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করবেন। আপনি সেই কি-ওয়ার্ড টাকে সিলেক্ট করবেন যেটা কি-ওয়ার্ড ডিফিকাল্টি কম এবং ভিজিটর বেশি। অবশ্যই রিসেন্ট আপডেট কিনা তা চেক করবেন।

ভূমিকাঃ 

একটি মানসম্পন্ন টাইটেল দেওয়ার পর আর্টিকেল একটি ভূমিকা দিয়ে শিরু করতে হয়। ভূমিকাটি হতে হবে নির্ভুল এবং এটি যেন হয় পুরো আর্টিকেলটির প্রতিচ্ছবি। অবশ্যই ভূমিকাটি প্রাসঙ্গিক হতে হবে। ভূমিকা কত বড় লিখতে হবে, তা আর্টিকেল এর উপর নির্ভর করে। আর্টিকেলটি ১০০০ ওয়ার্ডের মধ্যে হলে ১০০ ওয়ার্ডের মধ্যেই ভুমিকা লেখতে হবে। আর আরো বড় আর্টিকেল লেখার জন্য ১০০ ওয়ার্ডের বেশিও লেখা যাবে। তবে যারা  ওয়েবসাইটের জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখতে চান তারা এই ভূমিকার মাঝে একটি মেইন কি-ওয়ার্ড রাখবেন। তবে একটির বেশি নয়।


একটি আর্টিকেলে অনেক গুলো শিরোনাম লেখার প্রয়োজন পড়ে। এই শিরোনাম প্রত্যেকবার একই হয় না। এগুলো আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। যেমনঃ
  • Mejor Heading
  • Heading
  • Sub- Heading
  • Minor Heading 
  • Paragraph/Normal

মেজোর হেডিং (Mejor Heading):
এটি হলো প্রধান শিরোনাম। এই শিরোনাম লেখার বেশি বড় এবং বোল্ড বা গাড় হয়। এগুলোর আন্ডারে বা তত্ত্বাবধানে একে একে
Heading
Sub- Heading
Minor Heading 
Paragraph/Normal 
ইত্যাদি আসে। আর্টিকেলের মেইন বডি বা প্রধান অংশ এই হেডিং গুলোর মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়। এই হেডিং গুলোকে কোডিং ওর ভাষায় H1, H2, H3....নামে পরিচিত। একটি আর্টিকেল মিনিমাম ১০০০ ওয়ার্ডের লেখা ভালো। অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মাঝেই লেখতে হবে। উক্ত বিষয়ের বাহিরে যাওয়া যাবে না।

একটি তথ্যবহুল আর্টিকেল লেখার পর উপসংহার দিতে হবে। উপসংহার এর প্যারা বেশি বড় করা যাবে না। ৪-৫ লাইনের  মাঝেই শেষ করতে হবে। 

আর্টিকেল লেখার জন্য যেসকল বিষয় মাথায় রাখতে হবে-
  1. নীল বা অন্য কালারের ব্যবহার থাকতে হবে।
  2. তথ্যের রেফারেন্স দেওয়া ভালো
  3. নির্ভুল থাকতে হবে।
  4. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বোল্ড করে দিতে হবে।
  5. এক্সটার্নাল লিংক দিতে হবে।
  6. ইন্টারনাল লিংক দিতে হবে। 
  7. উপসংহার দিতে হবে।
  8. বিভিন্ন ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
  9. মেটা ডিসক্রিপশন বা আর্টিকেল নিয়ে ছোট করে বর্ণনা দিতে হবে।
  10. বড় করে মিনিমাম ১০০০ ওয়ার্ডের লেখতে হবে।

আশা করি আর্টিকেল লেখার নিয়ম নিয়ে লেখা ব্লগটা আপনাদের কাজে আসবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন।ধন্যবাদ।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Health

Blogger Templates